ফোর্বসের বিশ্বসেরা ৫০০ ব্যাংকের তালিকায় ব্র্যাক ব্যাংক

যোগ্য ব্যাংকগুলোকে চারটি প্রধান সূচকে মূল্যায়ন করেছে ফোর্বস। এর মধ্যে মুনাফাযোগ্যতার গুরুত্ব ৩০ শতাংশ, প্রবৃদ্ধি ও আয়ের গুণমান ২০ শতাংশ, মূলধন ও তহবিলের সক্ষমতা ২৫ শতাংশ এবং সম্পদের মান ও কার্যদক্ষতার গুরুত্ব ২৫ শতাংশ।

বিশ্বের সেরা পারফর্মিং ৫০০ ব্যাংকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ডস টপ পারফর্মিং ব্যাংকস ২০২৬’ তালিকায় ৭৩তম অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের এ ব্যাংকটি। মর্যাদাপূর্ণ এ তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক এটি।

বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিসটার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করেছে ফোর্বস। প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত জাতীয় ও বৈশ্বিক ব্যাংক রÅvংকিংয়ের তুলনায় এবারের তালিকাটি ভিন্ন। আগেরগুলোয় গ্রাহকদের জরিপভিত্তিক মূল্যায়নকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও ‘ওয়ার্ল্ডস টপ পারফর্মিং ব্যাংকস ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে মূলত বস্তুনিষ্ঠ আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে।

ফোর্বস জানিয়েছে, তালিকা তৈরিতে এসঅ্যান্ডপি ক্যাপিটাল আইকিউর মতো শীর্ষস্থানীয় তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উপাত্ত, ডেস্ক রিসার্চ এবং ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্লেষণে সর্বশেষ আর্থিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

যোগ্য ব্যাংকগুলোকে চারটি প্রধান সূচকে মূল্যায়ন করেছে ফোর্বস। এর মধ্যে মুনাফাযোগ্যতার গুরুত্ব ৩০ শতাংশ, প্রবৃদ্ধি ও আয়ের গুণমান ২০ শতাংশ, মূলধন ও তহবিলের সক্ষমতা ২৫ শতাংশ এবং সম্পদের মান ও কার্যদক্ষতার গুরুত্ব ২৫ শতাংশ। মুনাফাযোগ্যতা নির্ধারণে সম্পদের বিপরীতে গড় মুনাফা, আয়-ব্যয়ের অনুপাত এবং নিট সুদ মার্জিনের মতো সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ও আয়ের গুণমান নির্ধারণে তিন বছরের আয় বৃদ্ধির হার ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে গ্রাহক আমানত বৃদ্ধির বিষয়টি। মূলধন ও তহবিলের সক্ষমতা নির্ধারণে ব্যাংকের মূলধনের শক্তি এবং তহবিল সংগ্রহের কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে ইকুইটি অনুপাত ও ঋণ-আমানত অনুপাতের মতো সূচক। অন্যদিকে সম্পদের মান ও কার্যদক্ষতা মূল্যায়নে ঋণের গুণমান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যালান্স শিটের সক্ষমতার বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়েছে।

সব ব্যাংককে একই মাপকাঠিতে সরাসরি তুলনা করা হয়নি। মূল্যায়নের আগে মোট সম্পদের আকার অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ছয়টি শ্রেণীতে ভাগ করেছে ফোর্বস। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের ব্যাংককে টায়ার-১ বা বৈশ্বিক ব্যাংক, ১০০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের ব্যাংককে টায়ার-২, ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারকে টায়ার-৩ এবং ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারকে টায়ার-৪ হিসেবে ধরা হয়েছে। ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের ব্যাংক রয়েছে টায়ার-৫-এ। আর ৩ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের ব্যাংককে রাখা হয়েছে টায়ার-৬-এ। এ শ্রেণীবিন্যাসে ব্র্যাক ব্যাংক রয়েছে টায়ার-৫-এ। ফোর্বসের শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী এটি ‘লোয়ার মিড-সাইজ ব্যাংক’ ক্যাটাগরি।

ফোর্বসের তালিকায় স্থান পাওয়া বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বের ৫০০টি সেরা পারফরম্যান্সকারী ব্যাংকের তালিকায় ফোর্বসের স্বীকৃতি পাওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য শুধু একটি অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের জন্যও গর্বের মুহূর্ত। ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি, শক্তিশালী সুশাসন এবং আস্থার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি ব্যাংক যে বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে, এ স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।’

গত কয়েক বছর ব্র্যাক ব্যাংক ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকগুলোয়ও ব্যাংকটির মৌলিক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হয়েছে। শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, সমাজে অর্থবহ প্রভাব তৈরির প্রতিশ্রুতিও ব্র্যাক ব্যাংককে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। সুশাসন, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল ব্যাংকিং এবং আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স ব্যাংকটির কার্যক্রমের মূল ভিত্তি। এসব নীতি গ্রাহক ও অংশীজনদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যাংকের পথচলায় এগুলোই দিকনির্দেশনা দেবে।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফোর্বসের এ স্বীকৃতি একই সঙ্গে একটি অর্জন ও দায়িত্ব। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরামর্শ, গ্রাহকদের অব্যাহত আস্থা এবং ১৪ হাজারের বেশি সহকর্মীর নিষ্ঠার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশকে আরো শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে অবদান রাখার পাশাপাশি আরো শক্তিশালী, সহনশীল ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী একটি ব্যাংক গড়ে তুলতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

ব্র্যাক ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে ২০০১ সালের ৪ জুলাই। স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটির মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে অর্থায়ন বাড়ানো এবং ব্যাংকিং সেবার আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের অর্থায়নকে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সময়ের সঙ্গে ব্যাংকটির কার্যক্রমও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্র্যাক ব্যাংকের মোট সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

আরও